দুই মাস মাসিক না হওয়ার কারণ জেনে নিন

প্রিয় পাঠক, আপনি কি মাসিক সমস্যায় ভুগছেন? অনিয়মিত মাসিক বা দুই মাস মাসিক না হওয়ার কারণ জানতে চান? তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য। কারণ এই পোস্টে মাসিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আশা করছি আপনি উপকৃত হবেন। তাই মনোযোগ সহকারে এই পোস্টটি পড়তে থাকুন।
চলুন দেরী না করে আমরা জেনে নেই মাসিক সম্পর্কিত আরো বিভিন্ন অজানা তথ্য। যাতে করে মাসিক সমস্যায় আমাদের আর ভুগতে না হয়।

পোস্ট সূচিপত্রঃ দুই মাস মাসিক না হওয়ার কারণ জেনে নিন

ভূমিকা

মাসিক বা পিরিয়ড না হওয়ার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। তবে চিকিৎসকের মতে, প্রতি মাসে সাধারণত ২১ থেকে ৩৫ দিনের ব্যবধানে পিরিয়ড হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো ২১ থেকে ৩৫ দিনের আগেও মাসিক হতে পারে আবার পরেও হতে পারে। একে বলা হয় অনিয়মিত মাসিক।
অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা যে কোন বয়সের নারীদের দেখা দিতে পারে। অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে, পরিশ্রম, দুরবলতা, জীবনযাত্রায় বড় কোন পরিবর্তন বা স্ট্রেস। আবার অনেকের শারীরিক ত্রুটি থাকে যার কারনে পিরিয়ড ইরেগুলার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তারিখ অনুযায়ী মাসিক না হওয়ার কারণ

তারিখ অনুযায়ী মাসিক হওয়া নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বাপার। মনে রাখবেন, নারীস্বাস্থ্য সচল আছে কি না সেটা প্রমাণ করে একমাত্র নিয়মিত মাসিক। একজন নারীর শরীর সুস্থ এবং সন্তান ধারণের যোগ্য অবস্থান আছে কিনা তা সঠিকভাবে নির্ধারিত করে প্রতিমাসের নির্দিষ্ট সময়ের মাসিক। তবে তারিখ অনুযায়ী মাসিক না হওয়ার কিছু কিছু অন্যতম কারণ রয়েছেরুন
চলুন জেনে নিই সেই কারণগুলো :
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা : আমরা অনেকেই জানিনা হর মনের ভারসামাহীনতা কি? আর তারিখ অনুযায়ী মাসিক না হওয়ার অন্যতম কারণই হচ্ছে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। অনেক সময় নারীদের মধ্যে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে দেখা যায় পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম।
         এর ফলে জরায়ুর ভিতরে সিস্ট তৈরি হয় এবং তার ভয়াবহ দিক দেখা দেয় যা অনিয়মিত মাসিক।             এটি হতে পারে তারিখ অনুযায়ী মাসিক না হওয়া অথবা দীর্ঘ সময়ের বন্ধ্যাত্ব।
  • উচ্চ মানসিক চাপ : আমরা যদি অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভুগে থাকি তবে অনেক সময় দেখা যায় যে হাইপোথ্যালামাস ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। যার ফলে অনিয়মিত মাসিক হয়ে থাকে।
  • ওজন কম : বর্তমান যুগে কম ওজনের থেকে ওজন বেশি পরিমাণ অনেকটা বেড়ে গেছে। তাই ওজন বেড়ে যাওয়াটাই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়াটাও স্বাস্থ্যহানীর লক্ষণ। তাই সুস্থ থাকার জন্য সঠিক ওজন রক্ষা করাটাও নিয়মিত মাসিকের জন্য খুব জরুরী।

হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ

হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে যেমন :
  • থাইরয়েডের সমস্যা
  • এন্ডোমেট্রিওসিস
  • পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম
  • ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
থাইরয়েডের সমস্যা :
থাইরয়েড আন্ডারএ্যাকটিভ বা গ্ল্যান্ড ওভারএ্যাকটিভ যেটাই হোক না কেন একই সমস্যা দেখা দেয়। তবে মনে রাখতে হবে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা যদি বেড়ে যায় ঋতুস্রাবের পরিমাণ ক্রমশেই থাকবে। আর বেড়ে যাবে হৃদস্পন্দনের হার, ভয় পাওয়, এমনকি এ্যাংজাইটি।
এন্ডোমেট্রিওসিস : 
এন্ডোমেট্টিওসিস এর বিশেষ কিছু লক্ষণ রয়েছে।যেমন অতিস্রাব বা একেবারে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত সমস্যা। এছাড়াও মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা অনুভব, খুব যন্ত্রণাদায়ক পিরিয়ড ইত্যাদির কারণে এন্ডোমেট্রিওসিস এর সমস্যা দেখা দেয়।
পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম : 
পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম এর রোগ হয়ে থাকে বিশেষত যাদের এখনো যৌন সংসর্গ হয়নি। তাদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম। এই রোগের অবশ্য আরো অনেকগুলো লক্ষণ রয়েছে, যেমন : মুখ মন্ডল এছাড়াও শরীরের অন্যান্য অবাঞ্ছিত জায়গায় লোম গজানো, ছেলেদের মত টাক পড়ে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। 
আরো পড়ুনঃ পানির উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
এই পলিসিস্টিন ওভারিয়ান সিনড্রোম এর কিছু ভয়ানক দিক রয়েছে, যেমন এই রোগটি থাকলে রক্তপাত অনিয়মিত হয়ে যায় আবার ঠিক তেমনি যখন রক্তপাত শুরু হয় তখন এতটাই বেশি হয় যে রক্তস্বল্পতা ভোগার আশঙ্কা অনেকটা বেড়ে যায়।
ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়া : 
কখনো কখনো ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতেও মাসিক অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। ঠিক যেমন : ব্যথা কমানোর ওষুধ, মৃগী রোগের ওষুধ, এ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ইত্যাদি। তবে এই সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মাসিক না হলে কি বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

আমরা জানি প্রেগনেন্সি সবচেয়ে বড় চিহ্ন হচ্ছে পিরিয়ড না হওয়া। মাসিক চক্রের দিনগুলোর মধ্যে পিরিয়ড যদি না হয়ে থাকে তবে ধরে নেওয়া হয় তা গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কখনো কখনো অন্য কোন কারণেও মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই ঠিক কি কারণে মাসিক বন্ধ হয়েছে তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।   
আর নিশ্চিত করতে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। শুধুমাত্র মাসিক না হলেই যে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এমনটা ভাবলে ভুল হবে। একটি মেয়ে যখন গর্ভবতী হয় তখন তার শরীরে নানা রকম পরিবর্তন দেখা দেয়। তাই শুধু মাসিক না হলেই যে গর্ভবতী হয়েছে সেটা ধরে নেওয়া যায় না।

পিরিয়ড না হলে করণীয়

পিরিয়ড না হওয়া নিয়ে প্রায় বেশিরভাগ নারীরাই দুশ্চিন্তায় ভোগেন। নিয়মিত ঋতুস্রাবে তালিকা তে রয়েছে প্রতিমাসে অন্তত পক্ষে দুই থেকে সাত দিন স্থায়ী থাকে ঋতুস্রাব। পিরিয়ড না হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে তা নিম্নে দেওয়া হল :
  • সুষম ও প্রোটিন জাতীয় খাবার
  • অতিরিক্ত পানি পান করা
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
  • জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা
সুষম ও প্রোটিন জাতীয় খাবার : 
সুষম ও প্রোটিন জাতীয় খাবার না খেলে শরীরের রক্তশূন্যতা বা ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দেয়। যার ফলে মাসিক দেরি করে হয়। তাই প্রোটিন ও সুষম জাতীয় খাবার খেতে হবে যেমন মাংস ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।
অতিরিক্ত পানি পান করা :
শরীরে যদি পানির ঘাটতি থাকে তবে ইউরেটার ইনফেকশন সৃষ্টি হয়। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে এতে করে মাসিক নিয়মিত হতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করা : 
অতিরিক্ত ওজন শরীরের জন্য মোটেও কাম্য নয়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে মাসিক বন্ধ হয়। তাই সঠিক ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা : 
অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পিল গ্রহণ করতে হবে। পিল খাওয়া ছেড়ে দেওয়া চলবে না মাসিক বন্ধ হয়ে গেলেও পিল কন্টিনিউ করতে হবে। যদি এমনটা হয় যে মাসিক হচ্ছে না তবে বাদামি বর্ণের পিলখান অবশ্যই মাসিক হয়ে যাবে।

মাসিক হওয়ার ঔষধ

মাসিক যদি নিয়মিত না হয় তবে ভয়ের কোন কারণ নেই এর বিভিন্ন প্রকার চিকিৎসা ও ওষুধ রয়েছে। মাসিক হওয়ার জন্য কিছু ট্যাবলেট নিচে দেওয়া হল,
  • Normens
  • Ethinor
  • Menogia
  • Feminor
  • Menoral
  • Norcolut
  • Mensil N
  • Remens
  • Norestin
  • Noteron
উপরিউক্ত এই ট্যাবলেট গুলো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে পারেন। এই ট্যাবলেট গুলির নিয়মিত সেবন করার মাধ্যমে আপনার মাসিক নিয়মিত।

সর্বশেষ লেখকের মন্তব্য 

আশা করছি এতক্ষণ আপনি এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং মাসিক সম্পর্কে যে তথ্যগুলো দেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। আপনার কাছে যদি পোস্টটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। এতে করে তারাও মাসিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে এবং উপকৃত হবে ।

এছাড়াও মাসিক সম্পর্কিত বা অন্যান্য আরো তথ্য পেতে চাইলে এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। ধন্যবাদ ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন