সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন

প্রিয় পাঠক, আপনি কি সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান? এছাড়াও সরিষার তেল নিয়ে আপনার মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক করছে? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আজকের পোস্টটি আপনার জন্য। কারণ এই পোস্টে সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানানো হয়েছে। এবং আপনার মনের ঘুরপাক করা সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া রয়েছে।
তাহলে অতি শীঘ্রই মনোযোগ সহকারে পুরো পোস্টটি পড়তে থাকুন। এই পোস্টটি পড়ে সরিষার তেল সম্পর্কে নানা অজানা তথ্য জানতে পারবেন। আশা করছি আপনি উপকৃত হবেন।

পোস্ট সূচিপত্র: সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন

ভূমিকা

বাংলাদেশে বহু প্রচলিত একটি তেল হচ্ছে সরিষার তেল। সরিষার তেলে অতুলনীয় ঝাঁঝ রয়েছে। এছাড়াও আরো রয়েছে অধিক পরিমাণে আয়ুর্বেদিক গুনাগুন। সরিষা বীজ থেকে তৈরি করা হয় এই বিখ্যাত সরিষার তেল। এটি অতি ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত তেল। গবেষকরা জানিয়েছেন যে, শরীরের জন্য খুব উপকারী তেল হচ্ছে সরিষার তেল। 
সরিষার তেল দিয়ে খাবার তৈরি করে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ও সাহায্যকারী তেল হচ্ছে সরিষার তেল। তবে উপকার যেমন আছে তেমনি অপকারিতাও রয়েছে এই তেলের। তাই আজকের এই পোস্টে জানাবো সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা।

সরিষার তেলের প্রকারভেদ

দুই ধরনের সরিষার তেল বেশ প্রচলিত। যেমন:
  • মেশিনের তৈরিতে সরিষার তেল যা আমরা রান্না ও বিভিন্ন কাজে রেগুলার ব্যবহার করে থাকি।
  • বিভিন্ন ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি হয় এই তেলটি। সরিষার তেলের সাথে এইরকম বিভিন্ন উপাদান মেশানোর জন্য বিষাক্ত কম্পাউন্ড তৈরি করে থাকে। আর এই তেলটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। শুধুমাত্র থেরাপির কাজে এই তেলটি ব্যবহার করতে প্রযোজ্য।

সরিষার তেলের উপকারিতা

সাধারণত আমরা জানি সরিষার বীজ থেকে খাঁটি তেল উৎপাদিত হয়। যার গুনাগুন এতটাই বেশি যে বলে শেষ করা সম্ভব না। নিম্নে সরিষার তেলের উপকারিতা দেওয়া হলো:
  • হৃদপিণ্ড ঠিক রাখতে সাহায্য করে
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • ত্বকের কালো দাগ দূর করে
  • শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা কমাতে সাহায্য করে
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
  • অ্যাজমা রোগ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে
  • ওজন কমাতে সাহায্য করে
  • সর্দি কাশি কমায়
  • এছাড়াও আরো বিভিন্ন কার্যকারিতা রয়েছে এই তেলের।এই তেল নিয়মিত ব্যবহারে শরীরের মধ্যে টিউমার হওয়ার আশঙ্কা অর্ধেক কমিয়ে দেয়।
  • মূত্রাশয়ে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
  • শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যাতেও সরিষার তেলের কার্যকারিতা অনেক।
  • যেহেতু সরিষার তেলে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে সেহেতু মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করতে এই তেল কার্যকরী। কারণ মাইগ্রেনের সমস্যার সমাধানের ম্যাগনেসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • সরিষার তেলে থাকা ক্যালসিয়াম যা হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • মা বোনদের পিড়িয়ড চলাকালীন সময়ে ব্যাথায় কাতর হয়ে যায়। ঠিক সে সময় পেটে সরিষার তেল মালিশ করলে ব্যথা উপশম হয়।
  • দাঁত ও মাড়ির ব্যথাতেও সরিষার তেলের ভূমিকা অনেক বেশি।
  • সরিষার তেল সবসময় শরীরকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। যার কারনে ঠান্ডা লাগার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

খাবার তৈরিতে সরিষার তেলের উপকারিতা

অনেক ধরনের খাবার তৈরিতে সরিষার তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও আরো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এই তেল ব্যবহার করা যায়। নিচে তা দেওয়া হলো:
  • সরিষার তেল আচার তৈরিতে বেশ উপযোগী
  • সরিষার তেল দিয়ে ডাল ফ্রাই করে খেতে বেশ মজা লাগে
  • সালাদ তৈরিতে সরিষার তেলের বিকল্প অনেক বেশি
  • আমিষ ও নিরামিষ তৈরিতে সরিষার তেল ব্যবহার করা যায়

সরিষার তেলের অপকারিতা

সরিষার তেলের উপকারিতা আছে বলেই অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যা নিচে দেওয়া হলো:
  • সরিষার তেলের অতিরিক্ত ব্যবহারে হার্টের ক্ষতি করে। ইরুসিক নামক এসিড থাকে সরিষার তেলে যা হাটে টিস্যুর ক্ষতি করে থাকে।
  • অনেকেরই এলার্জি থাকে সরিষার তেলে। যার কারনে সরিষার তেল ব্যবহারে সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
  • দীর্ঘদিন ধরে সরিষার তেল ত্বকে ব্যবহার করলে চামড়ার ক্ষতি করতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীরা এটি এড়িয়ে চলবেন।
  • লাং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় সরিষার তেল। এটি হয়তো অনেকেই জানেনা।
যদিও বা বৈজ্ঞানিক এর প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত যে, বিভিন্ন সমস্যা সহায়ক হিসেবে কাজ করে সরিষার তেল। তবে এটিও ঠিক যে সকল সমস্যার সমাধানকারী সরিষার তেল নয়। কোন রোগে আক্রান্ত হলে সরিষার তেলের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দিন। চিকিৎসক যদি পরামর্শ দেয় সরিষার তেল ব্যবহার করতে শুধুমাত্র তবেই সরিষার তেল ব্যবহার করুন অন্যথায় নয়।

সরিষার তেল নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

  • সরিষার তেল লাগালে কি ত্বক কালো হয়ে যায়?
  • সরিষার তেল দিয়ে কি চর্বি দূর করা যায়?
  • ভেজা চুলে কি সরিষার তেল লাগানো যায়?
  • সরিষার তেল ও রসুন খেলে কি কোন উপকার পাওয়া যায়?
  • চুলে ঠিক কতক্ষণ সরিষার তেল লাগিয়ে রাখা যায়?
চলুন নিচে জেনে নিই আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর গুলো:
  • ত্বকের যত্নে সরিষার তেল
  • সরিষার তেল লাগালে ত্বক কালো হয়ে যায় এ ধারনাটি আপনার একদমই ভুল। নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহারে ত্বক কালো হয় না তার পরিবর্তে ত্বকে উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে।
  • চর্বি দূর করতে সাহায্যকারী সরিষার তেল
  • অবশ্যই সরিষার তেল দিয়ে চর্বি দূর করা যায়। অনেকেই জানে না যে মেদ কমাতে সরিষার তেলের কার্যকারিতা অনেক।
  • ভেজা চুলে সরিষার তেল
  • ভেজা চুলে সরিষার তেল লাগানো একদমই উচিত নয়। গোসলের পর চুল হালকা বা পুরোপুরি শুকিয়ে নিলে ভালো হয়। এতে সরিষার তেলের গুনাগুন চুলের যত্নে অনেকটাই বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়।
  • সরিষার তেল ও রসুন
  • অনেকের নাক ডাকার সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে সরিষার তেলের মধ্যে কিছুটা রসুন মিশিয়ে নাকে ব্যবহার করুন। দেখবেন নাক ডাকার সমস্যা দূর হয়ে গেছে। এছাড়াও সবজি তৈরিতে সরিষার তেলে ভাজা রসুন ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
  • চুলের যত্নে সরিষার তেল
  • সরিষার তেল চুলে ব্যবহার করলে চুল ঘন কালো ও মজবুত করে তোলে। ভালো ফলাফল পেতে সারারাত সরিষার তেল চুলে লাগিয়ে রাখুন সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

লেখক এর মন্তব্য

উপরের আলোচনা উপলব্ধি করতে পেরেছেন সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়। সরিষার তেলের উপকারিতা আছে বলেই যে অতিরিক্ত ব্যবহার করবেন এটি একদমই করা যাবে না। এতে উল্টো বিপরীত হতে পারে। নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও বাজারে প্যাকেট জাত বহু ভেজাল তেলের ছড়াছড়ি রয়েছে। 
তাই দেখে শুনে অবশ্যই ক্রয় করবেন। অবশ্যই বুঝে শুনে খাঁটি সরিষার তেলটি ক্রয় করবেন। না হলে নানা প্রকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। একটি কথা সত্যি যে, আমাদের প্রতিদিনের কারবার হচ্ছে দুই তেল নিয়ে। একটি হচ্ছে সরিষার তেল আরেকটি হচ্ছে সয়াবিন তেল। অধিকাংশ মানুষই রান্নার ক্ষেত্রে সরিষার তেলের থেকে সয়াবিন তেল একটু বেশি ব্যবহার করে। 

কিন্তু কোনটি খাবেন আর কোনটি পরিহার করবেন এতক্ষণে নিশ্চয়ই উপরের দিকে গুলো থেকে জানতে পেরেছেন। তাই আমার মতে উপরিউক্ত সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা দেখে নিজেরাই বুঝে নিন কোন তেলটি আপনার জন্য উপযোগী। আশা করছি আপনার এই পুরো পোস্টটি কাজে লাগবে। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন